সূরা তহা’র আলোকে নবীদের আদর্শ
পৃথিবীর ইতিহাসে সবচে সুন্দর ও সফল চরিত্রের অধিকারী ছিলেন নবী রাসূলগণ। তাদের চরিত্র মাধুর্যের সংস্পর্শে মানুষ পেয়েছে শান্তি ও মুক্তির পথ। তাদের সেই সুন্দর চরিত্রের বর্ণনা রয়েছে কোরআন ও হাদিসে।
মহান আল্লাহ তাদের এমনভাবে সৃষ্টি করেছেন যে, তাদের ভেতরে মনুষ্য চরিত্রের সকল ভালো দিকগুলোর সমাবেশ ঘটিয়েছেন। একেক জন নবী ছিল আদর্শ ভদ্র ভব্য সভ্য মোহনীয় চরিত্রের উপমা। তাদের ব্যবহারে শত্রুও অভিযোগ উঠাতে পারেনি, তাদের আচরণে সমাজের কেউ কষ্ট পায়নি। তাদের চলা-ফেরায় কোনো পথিক দুঃখবোধ করেনি। তাদের ক্রয়-বিক্রয়ে কোনো ক্রেতা বিক্রেতাও সমালোচনা করতে পারেনি। তাদের হাসিতের কেউ বিদ্রুপের রেশ পায়নি। তাদের চলনে বলনে কথনে শয়নে স্বপনে কেউ আহত হয়নি।
আরো পড়ুন>>> সূরা তহার আলোকে নবীদের আদর্শ (পর্ব- ৪)
তবে হ্যাঁ, অনেকে আহত হয়েছে; যাদের আহত হওয়াটাও সুন্দর চরিত্রের দাবি ছিল। নবীদের সেই চরিত্রগুলো কোরআনুল কারিমে মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের জন্য সুন্দরভাবে বর্ণনা করে দিয়েছেন। সেই চরিত্রগুলো আমরা নম্বরওয়ারি বিন্যাস করেছি। সেই বিন্যাসের নাম দিয়েছি নবীচরিত। আজ পঞ্চম পর্ব-
إِنَّكَ كُنتَ بِنَا بَصِيرًا
অর্থ : নিঃসন্দেহ আপনি আমাদের সম্যক দ্রষ্টা (সূরা তহা : আয়াত নম্বর ৩৫)
৫১ নম্বরগুণ: ‘সর্বদা আল্লাহর দৃষ্টির ভেতরে আছি’ এই জ্ঞান অন্তরে বদ্ধমূল রাখা
ব্যাখ্যা : আল্লাহর ওলীদের সর্বদা এই অনুভূতি অনুভবে থাকে যে, সে সদাসর্বদা আল্লাহর তত্তাবধানে আছে। তার কোনো নড়াচড়া, পাশ পরিবর্তন, উঠানামা সব আল্লাহর জ্ঞাতসারে হয়। দুনিয়া এক জাররাহ পরিমাণ তার দৃষ্টি ও জ্ঞানের বাইরে চলে না, তাঁর চোখে ঘুমও আসে না, চোখের পাতাও নড়ে না। বৃক্ষের পাতা পড়ার জ্ঞান টুকুও তিনি ভাললো করে রাখেন। তাঁর এই হাকিমানা বিচক্ষণতা, দায়িত্বশীল তত্তাবধান শুধু বান্দার বিশ্বাস আর ইয়াকিন আমলের ক্ষেত্রে ভিন্নমাত্রা যোগ করে না বরং পাগলামি, আবেগ ও অভ্যাসকে কন্ট্রোল করে। এমনিভাবে সত্যের পথের দোদুল্যমানতা থেকেও রক্ষা করে। অলসতা আর শিথিলতা দূর হয়ে যায়। দায়িত্ব চেতনা ও জিম্মাদারি বোধ জাগ্রত হয়।
إِذْ تَمْشِي أُخْتُكَ فَتَقُولُ هَلْ أَدُلُّكُمْ عَلَى مَن يَكْفُلُهُ فَرَجَعْنَاكَ إِلَى أُمِّكَ كَيْ تَقَرَّ عَيْنُهَا وَلا تَحْزَنَ وَقَتَلْتَ نَفْسًا فَنَجَّيْنَاكَ مِنَ الْغَمِّ وَفَتَنَّاكَ فُتُونًا فَلَبِثْتَ سِنِينَ فِي أَهْلِ مَدْيَنَ ثُمَّ جِئْتَ عَلَى قَدَرٍ يَا مُوسَى
তরজমা: সেই সময়ের কথা চিন্ত করো, যখন তোমার বোন ঘর থেকে বের হয়ে চলছে (ফিরআউনের কর্মচারীদের) বলছে আমি তোমাদেরকে এমন কারো সন্ধান দিব, যে একে লালন পালন করবে। এভাবে আমি তোমাকে তোমার মায়ের কাছে ফিরিয়ে দিলাম; যাতে তার চোখ জুড়ায়...
আরো পড়ুন>>> যে কারণে ইসলাম গ্রহণ করেছেন ইরিনা
৫২ নম্বর গুণ: তরবিয়াত ও পরীক্ষার সময়
ব্যাখ্যা : হজরত নবী আম্বিয়াদেরও কষ্ট দুঃখের পরীক্ষা পড়েছে। অতপর আল্লাহ তাদেরকে দুঃখ থেকে উত্তরণ দান করেছেন। জানা থাকা উচিত; জীবনের পরতে পরতে দুঃখ দুর্দশা জীবনের মান মর্যাদাকে বৃদ্ধি করে। পরীক্ষার মধ্যে গোনাহগারদের জন্য দুঃখ দুর্দশা শাস্তি স্মরূপ যেমনি, নেককারদের জন্য এই দুঃখ দুর্দশা উচ্চ মর্যাদার কারণও তেমনি। এই সুবাধে গোনাহগারদের গুনা সওয়াব দ্বারা পরিণতি হয়ে যায়।
৫৩ নম্বরগুণ: বড় বিপদের সময় পাড় করা
ব্যাখ্যা : যে জন আল্লাহর নিকটবর্তি বেশি, সে বড় বেশি বিপদে পতিত হয়। বিপদ মুসিবতের পাহাড় এসে পড়ে তার ওপর। বড় দুঃখ দুর্দশার মধ্য দিয়ে পাড়ি দিতে হয়। যে যত বড় তার বিপদ তত বড়’ এই সব বিপদের দ্বারা মর্যাদার উচ্চাসনে আসীন হওয়া যায়।
৫৪ নম্বরগুণ: দীর্ঘ সময় মেহনত দুর্দশা পাড়ি দেবার পর মূল গন্তব্য পাওয়া যায়।
ব্যাখ্যা: উচ্চ মর্যাদা সম্পন্ন আম্বিয়াগণও ব্যাপক পরীক্ষায় পতিত হয়েছেন। মেহনত মোজাহাদার দ্বারা উচ্চ মর্যাদা বা মাকাম লাভ করতে হয়। পানির টুকরা মতি হবার জন্য ঝিনুকের ভেতর অনেক সময় থাকে। পানির ধাক্কায় এদিক ওদিক হতে হতে একদা কারো গলার হার হয়ে যায়। এর থেকে এটাই বুঝা যায়- যে আমলে ও মুজাহাদায় সময় ব্যয় করবে, তারাই সফল।
وَاصْطَنَعْتُكَ لِنَفْسِي
তরজমা: এবং আমি তোমাকে বিশেষ ভাবে আমার জন্য তৈরি করছি। (সূরা: তহা, আয়াত: ৪১)
৫৫ নম্বরগুণ: খালেসভাবে নিজেকে আল্লাহর জন্য নিবেদিত করা
ব্যাখ্যা: জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত আল্লাহর জন্য ওয়াকফ করা। নিজের দিনকাল সর্ব সময় শুধু মাত্র জীবন বাঁচা পরিমাণ উপায় উপকরণ ছাড়া বাকী পুরো সময় আল্লাহর রাহে বিলিয়ে দেয়া। জীবনের সকল দৌড়-ঝাপ আল্লাহর জন্য হবে। জীবনের সকল উত্থাণ-পতন আল্লাহর জন্য হবে। অন্তরের প্রতি কাঁপন শ্বাষের প্রতিটি উপর নিচ, শরীরের প্রতিটি নড়াচড়া আল্লাহর জন্য হবে।
اذْهَبْ أَنتَ وَأَخُوكَ بِآيَاتِي وَلا تَنِيَا فِي ذِكْرِي
তরজমা : তুমি এবং তোমার ভাই আমার নির্দশনাসমূহ নিয়ে যাও এবং আমার যিকিরে শৈথিল্য করোনা। (সূরা: তহা, আয়াত: ৪২)
৫৬ নম্বরগুণ: আল্লাহর জিকিরে কখনো অলসতা না করা
যে ব্যক্তি আল্লাহর জিকিরে সদা তৎপর ও ব্যস্ত থাকে, তারা অলসতা শিথিলতাকে কাছে ভিড়তে দেয় না, গুরুত্বপূর্ণ কাজ বিশাল হাঙ্গামাও তাদের আল্লাহর জিকির থেকে বিরত রাখে না, বিশাল হৈহুল্লোড়েও তাদের জিকির ইবাদতের সুর তুলে, বহু লোকের ভিড়েও একাকীত্ব সৃষ্টি করে ফেলা তাদের জন্য মুশকিল নয়। তারা মনে করে আল্লাহর জিকির থেকে চুপ থাকলে দিল কাফের হয়ে যায়। এক মুহূর্তের জন্যও দিল থেকে জিকির উঠে যাওয়াকে কুফর মনে করে।
فَقُولا لَهُ قَوْلاً لَّيِّنًا لَّعَلَّهُ يَتَذَكَّرُ أَوْ يَخْشَى
তরজমা: তোমরা গিয়ে তার সঙ্গে নম্র ভাষায় কথা বলবে হয়তো সে উপদেশ গ্রহণ করবে অথবা (আল্লাহকে) ভয় করবে। (সূরা: তহা, আয়াত: ৪৪)
৪৭ নম্বরগুণ: নরম এবং ভাব গাম্ভীর্যপূর্ণ কথা বলা
ব্যাখ্যা : নরমী স্বভাব পছন্দসহ একটি স্বভাব। যা কথাবার্তায় আলোচনায় গাম্ভীর্যতা আনয়ন করে। কঠিন মেজাজের স্বভাব বা কথাবার্তা গাম্ভীর্যতায় পড়ে না। যে আলোচনা ও কথাবার্তা নরমিভাব আছে তা দিলের ওপর প্রভাব বিস্তার বা মনোনীত হয়। একারণে হজরত মুসা (আ.)-কে আল্লাহ ফিরআউনের দাওয়াতে পাঠিয়ে বলে দিয়েছিলেন, তার সঙ্গে নরমভাষায় কথা বলবে। ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ দাওয়াত দিবে; যাতে তার অহঙ্কারী ভাব দূর হয়ে যায়। কঠিন কথাবার্তার দ্বারা শ্রোতা সরে যায় বা বিরোধী হয়ে যায়। হজরত মুসা (আ.) থেকে বড় নসিহতকারীও কেউ হতে পারবে না আবার কেউ ফিরআউনের মতো এমন উদ্ধৃতৎপূর্ণ শ্রোতাও পাবে না। তাদের ব্যাপারেই যখন বলা হয়েছে নরমভাষায় কথা বলার; অন্যদের ব্যাপারে তাহলে কতদূর!
قَالا رَبَّنَا إِنَّنَا نَخَافُ أَن يَفْرُطَ عَلَيْنَا أَوْ أَن يَطْغَى
তরজমা: তারা বলল, হে আমাদের প্রতিপালক আমরা আশঙ্কা করি; সে কীনা আমাদের ওপর অত্যাচার করে অথবা সীমালঙ্ঘন করতে উদ্যত হয়। (সূরা: তহা, আয়াত: ৪৫)
৫৮ নম্বরগুণ: আল্লাহর সামনে দুর্বলতা পেশ করে সাহায্য চাওয়া
ব্যাখ্যা : মানুষের ভুল হবেই। মনুষ্য দুর্বলতা মানুষের সঙ্গে থাকবেই। সে প্রকাশ করুক না করুক। কখনো কোনো কারণ ছাড়া এমনিতেই সহজে প্রকাশ পায়। আবার কখনো প্রকাশ হয়ে যায়। মানুষের দুর্বলতা বিভিন্নভাবে হয়ে থাকে। আর দুর্বলতা গোপন করার কিছু নেই। আল্লাহর সামনে তা পেশ করে দোয়া করা। বারবার এগুলোর স্মরণে দোয়া করা। এগুলোকে আল্লাহর সাহায্যের অসিলা বানিয়ে দোয়া করা। নিজের দুর্বলতাকে পুজি করে দোয়া করা আম্বিয়াকেরামের গুণ।
قَالَ لا تَخَافَا إِنَّنِي مَعَكُمَا أَسْمَعُ وَأَرَى
তরজমা : আল্লাহ বললেন ভয় করো না আমি তোমার সঙ্গে আমি আছি আমি শুনি ও দেখি। (সূরা: তহা, আয়াত: ৪৬)
৫৯ নম্বরগুণ: দুশমনের শক্তি ও অত্যাচারকে ভয় না করে। আল্লাহর ওপর তায়াক্কুল করা
ব্যাখ্যা : বিদ্রোহ বিপ্লবের চেষ্টা সাধনায় এমন হতে পারে যে, রাষ্ট্রীয় রোষাণলে পড়া; ক্ষমতাসীনদের চক্রান্তের শিকার হওয়া; এমনকি রাষ্ট্রীয় শক্তি সত্যের বিপ্লবকে সন্ত্রাস বলে আখ্যায়িত করা। এমন অবস্থায়ও একমাত্র তায়াক্কুল হবে আল্লাহ আর আল্লাহ। সত্যের পথে থেকে কাউকে ভয় না করা জুলম নির্যাতন সত্তেও তাদের সামনে সত্য বলা হতে বিরত না থাকা নবীওয়ালা গুণ। তাদের সামনে সত্যকথা বলা রাসূলুল্লাহ (সা.) সর্বোত্তম জিহাদ বলেছেন। নবীদের জীবনেতিহাসে পাওয়া যায়, গর্দান চলে গেছে, ক্ষমতা চলে গেছে, তারপরও সত্য বলা বন্ধ করেনি। আল্লাহর সাহায্য সহযোগিতার অনুভব দিল থেকে সর্বপ্রকার ভয় নৈরাশ্যতা বের করে দেয়। আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা এবং বিশ্বাসই হয়ে উঠে বান্দার আসল হাতিয়ার। সে জানে আল্লাহ সবার ওপর শক্তি রাখে এবং সাহায্য করার ক্ষমতা রাখে এবং তিনি সর্বাদিক ক্ষমতাবান। বিষয় যখন এমনই হয় তাহলে বান্দার আর কী ভয় হয়।
فَأْتِيَاهُ فَقُولا إِنَّا رَسُولا رَبِّكَ فَأَرْسِلْ مَعَنَا بَنِي إِسْرَائِيلَ وَلا تُعَذِّبْهُمْ قَدْ جِئْنَاكَ بِآيَةٍ مِّن رَّبِّكَ وَالسَّلامُ عَلَى مَنِ اتَّبَعَ الْهُدَى
তরজমা: সুতরাং তোমরা তার কাছে যাও এবং বল আমরা তোমার প্রতিপালকের রাসূল। বনী ইসরাইলকে আমাদের সঙ্গে যেতে দাও এবং তাদেরকে শাস্তি দিও না। আমরা তোমার কাছে তোমার প্রতিপালকের নিদর্শন নিয়ে এসেছি। আর শান্তি তো তাদেরই প্রতি যারা হিদায়াত অনুসরণ করে। (সূরা: তহা, আয়াত ৪৭)
৬০ নম্বরগুণ: জাতির স্বাধীনতা ও মুক্তির চেষ্টা করা
ব্যাখ্যা : জাতির পরাধীনতা আর গোলামী এমন পাপ যা প্রায়শ্চিত্ত হয় না। গোলামীর কারণে মানুষের মধ্য বীরত্ব সাহস নির্ভীকতা মিটে যায়। জাতির স্বভাব নষ্ট বেকার হয়ে যায়। শক্তি সাহস খর্ব হয়ে যায়। আর পতিত জাতির ওপর হুদুদুল্লাহ বাকী থাকে না। একারণে নবী আলাইহিমুস সালাম তাদের স্ব স্ব জাতিকে পরাধীনতার গণ্ডি থেকে বের জরে আজাদ ও স্বাধীনতার গন্ডিতে প্রবেশ করান; যাতে ভয় ডরের রাজত্ব বিনাশ হয়ে শৌর্থ বীর্য ও মান মর্যাদার রাজত্ব কায়েম হয়। যেখানে হুকুকুল্লাহ চলবে পুরো বাঁধাহীন। বাতিল রাষ্ট্রে তাকওয়ার দাবি মিথ্যো প্রলভন ছাড়া কিছুই নয়।
فَتَنَازَعُوا أَمْرَهُم بَيْنَهُمْ وَأَسَرُّوا النَّجْوَى
তরজমা: এর ফলে তাদের মধ্যে নিজেদের করণীয় বিষয়ে বিরোধ দেখা দিল, তারা চুপিসারে পরামর্শ করতে লাগল। (সূরা: তহা, আয়াত ৬২)
৬১ নম্বরগুণ: তাদের বিরুদ্ধে মজবুত আন্দোলন গড়ে তুলা
ব্যাখ্যা: বিরোধীরা সর্বদা নবীদের বিরুদ্ধে গোপনে গোপনে ষড়যন্ত্র প্রস্তুত করত। সময়ের সৎ ব্যবহার কখনো ছাড়ত না। সর্বপ্রকার কলাকৌশল চেষ্টা প্রচেষ্টা করত যেন; নবীগণ কোনো কাজে সফলতা না পায়। মুনাফিকদের দল সময় সময় গরম থাকে। তারা বাহ্যিকভাবে খুব ভালোভাব দেখিয়ে নিজেদের ঈমান আকিদার পজিশন শক্ত করে নেয়। আর পেছনে পেছনে ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে। সমস্ত রাগ গোস্বা ইসলামের বিপক্ষে ঢালে। আল্লাহ তায়ালা সর্বদা তাদের চক্রান্তকে নস্যাত করে দেয়। কিন্তু আল্লাহ নিজের নিয়মনীতি থেকে বাহির হয়ে তাদের মুকাবিলা করবেন না। একদল যখন ইসলামের পক্ষে রাস্তায় নেমে যাবে, তাদের বিরুদ্ধোচারণ শুরু হলে আল্লাহর তাদের সাহায্য করবেন।
قَالُوا إِنْ هَذَانِ لَسَاحِرَانِ يُرِيدَانِ أَن يُخْرِجَاكُم مِّنْ أَرْضِكُم بِسِحْرِهِمَا وَيَذْهَبَا بِطَرِيقَتِكُمُ الْمُثْلَى
তরজমা: (পরিশেষে) তারা দু’জন বলল নিশ্চয়ই এই দু’জন (অর্থাৎ মুসা ও হারুন) যাদুকর। তারা চায় তোমাদেরকে তোমাদের ভূমি থেকে উৎখাত করতে এবং তোমাদের উৎকৃষ্ট (ধর্ম) ব্যবস্থার বিলোভ ঘটাবে। (সূরা: তহা, আয়াত: ৬৩)
৬২ নম্বরগুণ: বিরোধীদের পক্ষ হতে আসবে নিন্দা অপবাদ ও অপব্যাখ্যার অভিযোগ
ব্যাখ্যা : সত্যের বিরোধী পক্ষ যখন দলীল প্রমাণ দ্বারা উত্তরহীন হয়ে পড়ে, তখন নিজেদের শয়তানিয়াত চক্রান্ত আর রাগ ক্ষোভ মিটানোর জন্য সর্বদা নিন্দা ও অপবাদ দিতে থাকে। নিন্দা আর অপবাদে সত্যের প্রচারকদের অবস্থা সন্দেহ সংশয়যুক্ত হয়ে পড়ে। এই সব কর্মকাণ্ড দ্বারা তাদের উদ্দেশ্য হলো; ইসলামের ডাকে সাড়া দানকারীদের অন্তরে ইসলামের ব্যাপারে সন্দেহ সংশয় সৃষ্টি হওয়া আর এই সন্দেহ সংশয়ের কারণে ইসলাম ও ইসলামের দাওয়াতের ব্যাপারে তারা দোদুল্যমান হয়ে পড়ে। আর মনুষ্য তবিয়াতের অবস্থাতো এমন যে, সে বিরোধীদের কথায় অতিদ্রুত পরিবর্তন হয় ও তাসির গ্রহণ করে। তাই বিপ্লবীদের সর্বদা এই সব অপবাদ অপমান মুকাবেলা করার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।
فَأَجْمِعُوا كَيْدَكُمْ ثُمَّ ائْتُوا صَفًّا وَقَدْ أَفْلَحَ الْيَوْمَ مَنِ اسْتَعْلَى
তরজমা : সুতরাং তোমরা তোমাদের কৌশল সংহত করে নাও তারপর সারিবদ্ধ হয়ে এসে যাও। নিশ্চিত যে আজ জয়ী হবে সেই সফলতা লাভ করবে ( সূরা তহা : আয়াত নম্বর৬৪)
৬৩ নম্বরগুণ: তাদের ধ্বংসের জন্য ঐক্যবদ্ধ আক্রমণ
ব্যাখ্যা : ইসলাম বিদ্বেষীরা যখন দেখে তাদের অপবাদ নিন্দা সত্তেও সত্যের মিশন বেড়েই চলে; তাদের ষড়যন্ত্রের কোনো অস্ত্রই সফল হচ্ছে না। তখন তারা সত্যের আলোকবাতি নিভিয়ে দেয়ার জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়ে যায়। তাদের মধ্যকারে বিরোধ ভুলে এক দলে জমা হয়ে যায়। অতঃপর ঐক্যবদ্ধ কৌশল ও ষড়যন্ত্র শুরু করে। ভাবসাব দেখে মনে হয় একবার আক্রমণ করে সব সময়ের জন্য কাজ পূর্ণ করে নিবে। সত্যের সৈনিকদের জান নিয়ে নিবে (এমন মুহূর্তে সত্যের সৈনিকদেরও উচিত তাদের ওপর সম্মিলিত আক্রমণ) তাদের আক্রমণের জবাব আক্রমণ দ্বারা দিবে।
فَأَوْجَسَ فِي نَفْسِهِ خِيفَةً مُّوسَى
তরজমা: ফলে মুসা তার অন্তরে কিছুটা ভীতু অনুভব করল। (সূরা: তহা, আয়াত: ৬৭)
৬৪ নম্বরগুণ: ভয়াবহ যুদ্ধাভাব হতাশ পেরেশনী
ব্যাখ্যা : চূড়ান্ত দুর্বলতা সাহায্যহীনতা অবস্থায় পেরেশানী ও দুর্দশাগ্রস্থ হওয়া মনুষ্য সৃষ্টিসুলভ গুণ। এটা ইস্তেকামাত আর বীরত্বের কমতি না। আসল গুণ বা বীরত্ব হলো- শত্রুর মুকাবিলায় তার ষড়যন্ত্র ও যুদ্ধরীতি যতই কঠিন হোক না কেন? ভুল সিদ্ধান্ত না নিয়ে বরং ঠাণ্ড মাথায় চিন্তা ভাবনা করে ওই যুদ্ধ থেকে কীভাবে উত্তমরূপে জয়ী করা যায়। সংকীর্ণ অবস্থাকে প্রতিরোধ ক্ষমা বানিয়ে নেওয়া। ভয়ভীতের কারণে যেন মানসিকতা দুর্বল না হয়ে পড়ে। বরং বীরত্ব আর বাহাদুরীর সর্বোচ্চ প্রকাষ্ঠ প্রদর্শন করা’ এরই নাম পৌরুষ্য ও বীরত্ব, নবীদের জীবন ও বীরত্বের সূক্ষ্ম জ্ঞান। যেমনিভাবে আল্লাহ তায়ালা রাতের অন্ধকারকে নূরে আলোকিত করে দেয়, এমনিভাবে নৈরাশ্য আর পেরাশানীকে দূর করে হিম্মত ও সাহসের নূরে দীপিত করে দেয় (সুতরাং আমাদের শুধু সাহস করে জাগার প্রয়োজন)
قَالَ فَإِنَّا قَدْ فَتَنَّا قَوْمَكَ مِن بَعْدِكَ وَأَضَلَّهُمُ السَّامِرِيُّ
তরজমা: আল্লাহর বললেন, তুমি চলে আসার পর আমি তোমার সম্প্রদায়কে ফিতনায় ফেলেছি আর সামেরী তাদেরকে পথভ্রষ্ট করে ফেলেছে (সূরা: তহা, আয়াত: ৮৫)
৬৫ নম্বরগুণ: বাস্তব অবস্থা জানার পরও জাতির বিপদগামিতাও পরীক্ষা
ব্যাখ্যা : এর থেকে বুঝা যায়, জাতি যদি বিভ্রান্তিতে পড়ে, সত্যের পথ থেকে সরে পরে, এর দ্বারা একথা বুঝাবে না যে দাঈ তার দায়িত্ব পালন করেনি বা কোনো কমতি করেছে বা অলসতা করেছ। দায়িত্বের ক্ষেত্রে সর্ব বিষয় সুস্পষ্ট হওয়ার পরও জাতি কখনো কখনো এমন দুর্বলতা প্রকাশ পায়; যার দ্বারা পুরো জাতি সিরাতে মুস্তাকিম হতে সরে পরে। এমন অবস্থা সৃষ্টি হওয়াও একটি পরীক্ষা। জাতির জন্যও দাঈর জন্যও। এমন সময়গুলো মুকাবিলা করার জন্য প্রস্তুত থাকা দরকার। বনী ইসরাঈল সবাই মিলে গরু পুজায় লেগে গেল, হজরত মুসা (আ.) এই কঠিন মুহূর্তও সহজ শান্তি ও উত্তমরূপে মুকাবিলা করছেন। চলবে...
ডেইলি বাংলাদেশ/আরএজে